প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৭:৫৪ পিএম (ভিজিটর : )
দিনাজপুরের কাহারোলে নামাজরত অবস্থায় বখাটের ছুরিকাঘাতে আহত কিশোরীর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।
কিশোরীর চাচা বায়োজিত সারোয়ার ও কাহারোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়িতেই নামাজ পড়ছিল কাহারোল উপজেলার দ্বীপনগর গ্রামের জুয়ের রানার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে। এ সময় তার বাড়ির প্রাচীর টপকে বাড়িতে প্রবেশ করে আরিফ হোসেন (১৮)। সে প্রবেশ করেই নামাজরত অবস্থায় কিশোরীকে কোমরে আঘাত করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এ সময় কিশোরী চিৎকার চেঁচামেচি করলে আরিফ পালিয়ে যায়। পরে কিশোরীকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মৃত্যুবরণ করে ওই কিশোরী।
নিহতের চাচা বায়োজিত সারোয়ার এই ঘটনায় জড়িত ওই বখাটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই এই বখাটে তরুণ আমার ভাতিজিকে উত্ত্যক্ত করতো। গত দুদিন আগেও ওই বখাটে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাকে বুঝিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর সে সকলের অগোচরে বাড়িতে প্রবেশ করে আমার ভাতিজিকে কুপিয়েছে। এমন ঘটনা যাতে করে আর কারও পরিবারে না ঘটে। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি এবং এই ঘটনায় আরও যদি কেউ জড়িত থাকে তাহলে তাকেও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কিশোরীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলায় বখাটে তরুণ কাহারোল উপজেলার ভাতগাঁ গ্রামের আবুল কালামের ছেলে আরিফ হোসেনকে বুধবার দিবাগত রাতেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি রুহুল আমিন বলেন, ‘ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত তরুণ কারাগারে রয়েছে। কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে যে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে সেই মামলায় এখন হত্যার ধারা যুক্ত হবে।’