প্রকাশ: শনিবার, ১ মার্চ, ২০২৫, ৩:১২ পিএম (ভিজিটর : )
বছর ঘুরে ‘রহমত’, ‘মাগফিরাত’ ও ‘নাজাতের’ উপহার নিয়ে আবারও চলে এলো পবিত্র মাহে রমজান। আমাদের প্রিয়নবীও (সা.) রমজানের অপেক্ষা করতেন এবং রমজান আসার দুই মাস আগে থেকেই আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন, যাতে রমজান প্রাপ্তির সৌভাগ্য লাভ হয়। ওই দোয়াটি পড়তে হাদিস শরিফেও উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
দোয়াটি হলো—‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান।’ অর্থ : ‘হে আল্লাহ, আমাদের রজব ও শাবান মাসে বরকত দিন এবং রমজানে পৌঁছে দিন।’ বিখ্যাত সাহাবি হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) রজব মাস শুরু হলে এই দোয়া পড়তেন।’ (বাইহাকি, হাদিস : ৩৫৩৪)
ইসলামে রমজান মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত অন্যান্য মাসের চেয়ে অনেক বেশি। মহান আল্লাহ রমজান মাসের রোজাকে সবশেষ নবী মোহাম্মদের (সা.) উম্মতের ওপর ফরজ ও আবশ্যক করেছেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে তিনি বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩)
একই সঙ্গে রমজান মাসে রোজা রাখা ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। এক. এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ (ইবাদতের উপযুক্ত কোনও সত্ত্বা) নেই এবং মোহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসুল; দুই. সালাত কায়েম করা; তিন. জাকাত আদায় করা; চার. হজ্ব পালন করা এবং পাঁচ. রমজানের রোজা রাখা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৮)
মুসলমানদের নিকট অতি গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র রমজান হিজরি বর্ষের নবম মাস। হিজরি বর্ষের সম্পর্ক চাঁদের সঙ্গে। এজন্য রমজানের আগমনও হয় আকাশে একটি নতুন চাঁদ উদিত হওয়ার মাধ্যমে। আর রমজানসহ চান্দ্র বর্ষের প্রতিটি মাসের নতুন চাঁদ দেখলে মহানবী (সা.) একটি দোয়া পড়তেন। দোয়াটি হলো—‘আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমান, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম। রাব্বি ওয়া রাব্বুকুল্লাহ।’ অর্থ : ‘হে আল্লাহ, আপনি এই নতুন চাঁদকে আমাদের জন্য ঈমান ও ইসলাম এবং শান্তি ও বরকতের সঙ্গে উদিত করুন। (হে চাঁদ!) আমার ও তোমার রব আল্লাহ।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৫১)
এর পাশাপাশি নতুন বছর ও মাসের শুরুতে হাদিস শরিফে আরও একটি দোয়ার উল্লেখ রয়েছে। ইমাম আবুল কাসেম বাগাভী (রহ.) ‘মুজামুস সাহাবা’ কিতাবে লিখেছেন। সাহাবি আবদুল্লাহ বিন হিশাম (রা.) বলেন, ‘সাহাবায়ে কেরাম নতুন মাস বা নতুন বছর শুরুর এ দোয়াটি এমন গুরুত্ব দিয়ে শিখতেন, যেভাবে কোরআনুল কারিম শিখতেন। দোয়াটি হলো—‘আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমান, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম, ওয়া জিওয়ারিম মিনাশ শাইতান, ওয়া রিদওয়ানিম মিনার রহমান।’ অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মাঝে এ মাস/বছরের আগমন ঘটান শান্তি ও নিরাপত্তা এবং ঈমান ও ইসলামের (ওপর অবিচলতার) সঙ্গে, শয়তান থেকে সুরক্ষা ও দয়াময় আল্লাহর সন্তুষ্টির সঙ্গে।’ (মুজামুস সাহাবাহ : ৩/৫৪৩, বর্ণনা : ১৫৩৯)
নতুন চাঁদ দেখলে হাদিসে দোয়া পড়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কিন্তু তার আগে বিশেষত, রমজানের চাঁদ দেখা এবং চান্দ্র বর্ষের হিসাব রাখা সমাজের কিছু মানুষের ওপর মহান আল্লাহ ফরজ করেছেন। এজন্য প্রতি আরবি মাসের ২৯ তারিখ নতুন চাঁদ তালাশ করা মুসলমানদের জন্য ফরজে কেফায়া। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০৮১)
সুতরাং এর ভিত্তিতে আজও আমরা আকাশে রমজানের নতুন চাঁদ তালাশ করবো এবং আকাশে চাঁদ দেখা গেলে উপরোক্ত দোয়াগুলো পড়ে পূর্ণ উদ্যমে ও নতুন সংকল্পে রমজানের কল্যাণ লাভে নিমগ্ন হবো, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।