সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের কলমতেজী টহল ফাঁড়ি-সংলগ্ন বনে লাগা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও করণীয় জানতে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সুন্দরবন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, ‘কলমতেজীর আগুন পানি দিয়ে দুপুরেই নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার কারণ জানতে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে, গুলিশাখালীতে এক কিলোমিটার এলাকায় আগুন জ্বলছে। সেখানে ফায়ার লাইন কাটাসহ আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কাজ চলছে। আগুন নিভানোরও প্রচেষ্টা চলছে।’
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাসকে প্রধান করে এই কমিটি করা হয়। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
রোববার (২৩ মার্চ) সকালে ধানসাগর স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা বিপুলেশ্বর দেবনাথ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সন্ধ্যার দিকে চলে গেলেও, শনিবার রাত ৯টা থেকে বন বিভাগের নিজস্ব পাম্প ও পাইপ লাইনের মাধ্যমে আগুনস্থলে পানি দেওয়া হয়েছে। বনরক্ষী ও বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় অদক্ষ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক রাতভর আগুন নিয়ন্ত্রণে আমাদের সাথে কাজ করেছে। আগুন এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
রবিবার সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিয়ন্ত্রণে আসা আগুন আর ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা বা আবার জ্বলে ওঠার শঙ্কায় ঘটনাস্থলে আগুনের অস্তিত্ব খুঁজছেন বন বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা।
এর আগে, শনিবার দুপুরে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের কলমতেজী এলাকায় আগুন লাগে। বন বিভাগ ও জেলেদের সূত্রে জানা যায়, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের কলমতেজী এলাকার বিলে ২২মার্চ ধোঁয়া দেখতে পায় জেলেরা। পরে বনরক্ষীদের খবর দিলে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বনরক্ষীরা সুন্দরবনের আগুন লাগা এলাকায় ফায়ার লাইন কেটে আগুন যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে চেষ্টা চালায়। কিন্তু যে এলাকায় আগুন লেগেছে সেখান থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে পানির খাল থাকায় সেখান থেকে পানি নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্রতিবছর সুন্দরবনের এই এলাকাটিতে প্রায়ই আগুন লাগার মূল কারণ একশ্রেণির জেলেরা বিলে মাছ ধরে। তারা বিড়ি খেয়ে অনেকসময় আগুন ফেলে দেয়। তার থেকে প্রায়ই সুন্দরবনের এই এলাকায় এক বছর দুই বছর পরপর আগুন লেগে থাকে।’