প্রকাশ: সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০২৫, ১২:৪৩ পিএম (ভিজিটর : )
তুরস্কের ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখিয়েছে আদালত। দুর্নীতির অভিযোগে রবিবার (২৩ মার্চ) তাকে কারাগারেও পাঠানো হয়েছে। তারপরও দেশজুড়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে এসেছে। অবশ্য মেয়রকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে গত চারদিন ধরে দেশটির বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয় ইস্তানবুলের এই মেয়র একরেম ইমামোগলুকে। সময় ইস্তাম্বুলের মেয়রকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো, যখন তার দল সিএইচপির প্রাইমারিতে (প্রার্থী বাছাই) ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাকে দলের প্রার্থী করতে ভোটাভুটি চলছে। দলীয় সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ভোট দিতে পারছেন।
তার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রবিবার রাতে তুরস্কে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অস্থিরতা দেখা যায়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
রবিবার সন্ধ্যার আগেই হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ইস্তানবুল সিটি হলের সামনে জড়ো হয়। তুর্কি পতাকা হাতে নিয়ে তারা দাঙ্গা পুলিশের সামনে স্লোগান দেয়।
পুলিশ কিছু বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান ব্যবহার করে এবং পিপার স্প্রে প্রয়োগ করে।
সিটি হলের সামনে জড়ো হওয়া বিশাল জনতার উদ্দেশে ইমামোগলুর স্ত্রী দিলেক কায়া ইমামোগলু বলেন, ‘আমার স্বামীর বিরুদ্ধে করা এই অবিচার প্রতিটি বিবেককে নাড়া দিয়েছে।‘
ইমামোগলুর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে হওয়া এই বিক্ষোভ ২০১৩ সালের গেজি পার্ক আন্দোলনের পর তুরস্কে সবচেয়ে বড় গণআন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির হিসাবে, তুরস্কের ৮১টি প্রদেশের মধ্যে কমপক্ষে ৫৫টিতে বিক্ষোভ হয়েছে, যা পুরো দেশের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি।
গত বুধবার একটি তদন্তের অংশ হিসেবে ইমামোগলুসহ ১০০ জনের বেশি রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাকে ‘অপরাধী সংগঠন গঠন ও পরিচালনা, ঘুষ গ্রহণ, চাঁদাবাজি, অবৈধভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ ও টেন্ডার জালিয়াতি’র অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এএফপি ও স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, তাকে সিলিভ্রি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইমামোগলুকে মেয়রের পদ থেকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।
ইমামোগলু তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘আমি কখনও মাথা নত করব না।’
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এই বিক্ষোভের নিন্দা জানিয়ে সিএইচপিকে ‘জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ও শান্তি বিনষ্টের চেষ্টা’ করার অভিযোগ করেছেন।