প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০২৫, ১১:০০ এএম (ভিজিটর : )
ময়মনসিংহ বিভাগে প্রায় দুই কোটি মানুষের বসবাস। তাদের চিকিৎসার প্রধান কেন্দ্র ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (মমেক)। এই হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ১২টি শয্যা রয়েছে। বিভাগের আর কোনও সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ নেই। এ নিয়ে রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের প্রায় দুই কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য সরকারি-বেসরকারি মিলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শয্যা আছে ৩৫টি। হিসাবে প্রায় ছয় লাখ মানুষের জন্য আইসিইউ শয্যা মাত্র একটি। ফলে একটি শয্যা পেতে রোগীর স্বজনদের দুর্ভোগের কোনও শেষ থাকে না।
রক্তে ও ফুসফুসে ইনফেকশন এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে গত ২০ মার্চ সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাটের কৃষক আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী সখিনা খাতুনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসক তাকে আইসিইউতে রাখতে বলেন। কিন্তু হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা ফাঁকা না থাকায় স্বজনরা বাইরের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরেও আইসিইউ শয্যা না পেয়ে রোগীকে বাঁচাতে বাধ্য হয়ে স্বজনরা ঢাকায় নিয়ে যান।
সখিনা খাতুনের ছেলে সাজেদুল আলম বলেন, ‘শহরের কয়েকটি হাসপাতালে ঘুরেও আইসিইউ জোগাড় করতে পারিনি। একটিও ফাঁকা ছিল না। ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আইসিইউ ফাঁকা থাকলে মাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে হতো না। এ কারণে বাধ্য হয়ে ঢাকায় নিয়েছি। এটি শুধু আমার মায়ের বেলায় নয়, প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে ঘটছে। এজন্য জেলায় আইসিইউ শয্যা বাড়ানো জরুরি।’
শুধু সখিনার স্বজনদের নয়, হাসপাাতলে একটি আইসিইউ শয্যার জন্য বেশিরভাগ রোগীর স্বজনদের একই অবস্থা। অবস্থা এমন হয়েছে, সব সময় আইসিইউতে রোগী থাকছে। অন্যদের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। ডাক্তারদের কিছুই করার থাকে না। কেউ সুস্থ হলে বা মারা গেলেই শুধু আইসিইউ শয্যা খালি হয়।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের নেত্রকোনা, জামালপুর ও শেরপুর সদর হাসপাতালে আইসিইউ সেবা নেই। এমনকি এসব জেলার বেসরকারি হাসপাতালেও আইসিইউ নেই। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ আছে ১২টি। এ ছাড়া নগরীর বেসরকারি প্রান্ত হাসপাতালে দুটি, স্বদেশ হাসপাতালে তিনটি, সায়েম হাসপাতালে তিনটি, নেক্সাস হাসপাতালে দুটি ও সিবিএমসিবি হাসপাতালে রয়েছে ১৩টি আইসিইউ শয্যা। এ নিয়ে বিভাগের চার জেলার দুই কোটি মানুষের জন্য আইসিইউ রয়েছে মাত্র ৩৫টি। সরকারি সব হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা বাড়ানোর দাবি রোগীর স্বজনদের।
স্বাস্থ্যসেবায় এমন বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক দলের ও নাগরিক নেতৃবৃন্দ। সিপিবির জেলা সভাপতি এমদাদুল হক মিল্লাত বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের পকেট ভরার জন্য লুটপাট করেছে। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগের উন্নয়নে কোনও কাজ করেনি। এজন্য আজ স্বাস্থ্য বিভাগের এই বেহাল দশা।’
একই কথা বলেছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। কিন্তু দেশের মানুষের জন্য কোনও কাজ করেনি। স্বাস্থ্যখাতের এমন চিত্রই বলে দেয় তারা দেশকে ধ্বংস করে চলে গেছে। তবে বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করলে স্বাস্থ্য বিভাগের উন্নয়নে কাজ করবে, মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।’
জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি এএইচএম খালেকুজ্জামান বলেন, ‘চিকিৎসাসেবা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য জেলার সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ বাড়ানোর ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় মহাপরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, ‘দক্ষ জনবলের অভাবে সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শয্যা বাড়ানো সম্ভব হয়নি। তবে আগামী দিনে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আইসিইউ শয্যা বাড়ানো হবে।’