প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০২৫, ১১:১০ এএম (ভিজিটর : )
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের পথসভায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় হান্নান মাসউদসহ এনসিপির ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন হান্নান মাসউদ। সোমবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার জাহাজমারা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে রাত সাড়ে ৮টা থেকে জাহাজমারা বাজারে সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের একাধিক টিম। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাদের অবস্থান কর্মসূচি চলছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাজমারা বাজারে নেতাকর্মীদের নিয়ে পথসভা করছিলেন হান্নান মাসউদ। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা এসে পথসভায় হামলা চালান। প্রতিবাদে সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন হান্নান মাসউদ ও তার অনুসারীরা।
হান্নান মাসউদের প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইউছুফ সাংবাদিকদের জানান, গত শনিবার এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদ এলাকার দুস্থ মানুষের খোঁজখবর নিতে হাতিয়ায় আসেন। সোমবার বিকালে তিনি উপজেলার জাহাজমারা বাজারে যান। ইফতার শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি বাজারে একটি পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপি নামধারী একদল লোক বাজারের পশ্চিম দিক থেকে মিছিল নিয়ে এসে পথসভায় বাধা দেন এবং হামলা চালান। তাদের হামলায় হান্নান মাসউদসহ অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হন। পরে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার দাবিতে হান্নান মাসউদের নেতৃত্বে জাহাজমারা বাজারে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার নির্ধারিত পথসভা চলাকালীন বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী এসে হামলা চালিয়েছেন। হামলায় আমিসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রশাসনের লোকজন এলেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। হামলার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো।’
বিএনপির লোকজন কেন হামলা করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিবাদের কারণে হাতিয়ায় অনেক নেতা বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করতে পারছেন না। এজন্য ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছেন তারা। হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে আমরা সড়কে অবস্থান নিয়েছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক বলেন, ‘হামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজমল হুদা বলেন, ‘হান্নান মাসউদের পথসভায় হামলার খবর শুনেছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে।’