থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে একটি নির্মাণাধীন ভবন ধসে পড়ায় ৮১ জন নির্মাণ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী এই সংখ্যা জানিয়েছেন। এর আগে দেশটির জাতীয় জরুরি চিকিৎসা ইনস্টিটিউট (এনআইইএম) নিখোঁজ শ্রমিকের সংখ্যা ৭০ বলে জানিয়েছিল। শুরুতে সংস্থাটি ৪৩ জন নিখোঁজের খবর দিয়েছিল।
এনআইএমের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, ভবনটি ধসে পড়ার সময় সাইটে প্রায় ৩২০ শ্রমিক কাজ করছিলেন। তাদের মধ্যে ২০ জন লিফ্ট শ্যাফটে আটকা পড়েছেন।
ধসে পড়া ভবনটিতে কতজন নিহত হয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধারকারীরা জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় ঘটনাস্থলেই একটি ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে মিয়ানমারে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর প্রভাবে ব্যাংককের চাতুচাক এলাকার ৩০ তলা এই ভবনটি ধসে পড়ে। ভূমিকম্পের পর থেকেই ব্যাংকক ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ব্যাংককে ধসে পড়া ভবনে ৮১ নির্মাণ শ্রমিক নিখোঁজ
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েতংটান সিনাওয়াত্রা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং উদ্ধার তৎপরতা ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকক কর্তৃপক্ষ শহরটিকে দুর্যোগ এলাকা ঘোষণা করেছে।
গত কয়েক ঘণ্টায় উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েকজনকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ভবনটির অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দমকল কর্মকর্তারা।
থাইল্যান্ডের জরুরি চিকিৎসা সেবা বিভাগের প্রধান ড. আতচারা নিথিবুননাওয়াত বলেন, আমরা এখনও আশাবাদী যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসক ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। নিখোঁজ শ্রমিকদের আত্মীয়স্বজনরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়েছেন এবং তাদের প্রিয়জনের খোঁজে ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করছেন।
গত কয়েক বছরে ব্যাংককে নির্মাণাধীন ভবন ধসে পড়ার এটিই সবচেয়ে বড় ঘটনা। ২০১৬ সালে শহরটির একটি নির্মাণাধীন ভবন ধসে পড়ে ১২ জন নিহত হয়েছিলেন।