প্রকাশ: বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০২৫, ১২:৫৫ পিএম (ভিজিটর : )
পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে রাজধানী ছেড়ে এখন গ্রামে অবস্থান করছেন কয়েক লাখ মানুষ। ঈদের আগের দিন থেকেই রাজধানীর বেশিরভাগ সড়কই ফাঁকা। প্রধান সড়কগুলোতে বাস চলাচল করছে হাতে গোনা। নেই চিরচেনা যানজট। অলস সময় কাটছে ট্রাফিক পুলিশের। ফাঁকা সড়কগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
ঈদের তৃতীয় দিন বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজধানীর গুলিস্তান, মতিঝিল, শান্তিনগর, কাকরাইল, পল্টন, বাবুবাজার, মালিবাগ, শাহবাগ, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, রামপুরা, বাড্ডা, কুড়িল, নিউমার্কেট ও ধানমন্ডিসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এদিন রাজধানীর প্রায় সব সড়কেই যানবাহনের চাপ কম। কিছু বাস চললেও রয়েছে যাত্রী সংকট। নেই চিরচেনা যানজট। ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও জরুরি কাজে যারা ঢাকায় রয়ে গেছেন, তাদের অনেকেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে বের হচ্ছেন। স্বল্প দূরত্বের কোথাও যেতে তারাও বেছে নিচ্ছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
অন্যদিকে প্রধান সড়কে কিছু বাস চললেও যাত্রী সংখ্যা একেবারেই কম। বেশিরভাগ সিট থাকছে ফাঁকা। তাই যাত্রীর অপেক্ষায় স্টপিজে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজারের সামনে থেকে ভিক্টর পরিবহনের একাধিক যাত্রী জানান, অন্য সময় এই যানজটের কারণে এয়ারপোর্ট যেতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যেতো। অথচ ঈদের ছুটিতে ৩০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছা যাচ্ছে।
যাত্রাবাড়ী থেকে শেওড়াপাড়া হয়ে মিরপুরগামী শিকড় পরিবহনের বাস চালক সোহেল জানান, ঈদে সবসময় যাত্রী কম থাকে। তারপরও কিছুটা বাড়তি উপার্জনের জন্য গাড়ি নিয়ে নেমেছেন। তবে যাত্রী অনেক কম। প্রায় সিট ফাঁকা থাকে। তিনি বলেন, ‘চাপ কম থাকায় কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছা যায়।’
অবশ্য কোনও কোনও ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও আছে। আগে যানজটের কারণে রাস্তায় বিলম্ব হতো। আর এখন যাত্রী সংকটের কারণে স্টপিজে দেরি হচ্ছে বলে জানান যাত্রীরা। যাত্রাবাড়ী থেকে মোহাম্মদপুরগামী ট্রান্স সিলভা বাসে করে সাইন্সল্যাবে মোড়ে নেমে এক যাত্রী জানান, ঈদের আগে যানজটের কারণে দেরি হতো। আর এখন দেরি হচ্ছে যাত্রী সংকটের কারণে।
এ নিয়ে প্রায় সময় যাত্রীদের সাথে বচসা হচ্ছে পরিবহন শ্রমিকদের। আজিমপুর থেকে গাজীপুরগামী ভিআইপি পরিবহনের চালক আবদুল মমিন বলেন, ‘সোবহানবাগ থেকে এক যাত্রী তার পরিবার নিয়ে নেমে যাচ্ছিলেন একটু থামিয়ে রাখার জন্য। কারণ তখন আমার বাসে কমপক্ষে ২০টি সিট খালি। এত কম যাত্রী নিয়ে গেলে তো তেলের টাকাও উঠবে না। তাই বুঝিয়ে বলায় তিনি আবার বসেছেন।’
অবশ্য বাস কম থাকলেও পুরো নগরী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রিকশা ও ব্যাটরিচালিত অটোরিকশা। পরিবারসহ মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান। তিনি জানান, রাস্তা ফাঁকা হওয়ায় দ্রুত যাওয়া যাবে, এই ভেবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়েছেন। তাছাড়াও সিট বড় হওয়ায় একসঙ্গে তিন জন অনায়াসেই যাওয়া যায়। তাই সড়কে অটোরিকশার আধিক্য বেশি।
অপরদিকে যানজট কম হওয়ায় অধিকাংশ সিগন্যালে নেই ট্রাফিক পুলিশ। কোনও কোনও জায়গায় দুই একজন ট্রাফিক থাকলেও সময় কাটাচ্ছেন গল্পগুজব করে। গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছিলেন আবদুল আহাদ। তিনি জানান, অন্য সময় এখানে কমপক্ষে তিন জন দায়িত্ব পালন করতে গিয়েও হিমশিম খেতে হতো। আর ঈদের ছুটিতে রাস্তা ফাঁকা হওয়ায় একজনই দায়িত্বে আছেন।
অবশ্য বাস কম থাকলেও সড়কে ব্যটারিচালিত অটোরিকশা বেশি চলাচল করায় কিছুটা সতর্ক থাকতে হচ্ছে বলেও জানান পুলিশের এই সদস্য। তিনি বলেন, ‘ফাঁকা রাস্তা থাকলে বেপরোয়া গতির কারণে এসব যানবাহন অনেক সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ার শঙ্কা থাকে।'