প্রকাশ: বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০২৫, ১:০৩ পিএম (ভিজিটর : )
এমপিওভুক্তিতে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে পুলিশি নির্যাতনে আন্দোলন ছেড়ে ঘরে ফেরেন বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকরা। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরেও দাবি পূরণ না হওয়ায় আবারও আন্দোলনে ফিরবেন শিক্ষকরা।
বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকরা সর্বশেষ আন্দোলন শুরু করেন গত অক্টোবরে। কিন্তু পুলিশি নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে আন্দোলন ছেড়ে ঘরে ফিরে যান তারা।
দেশের ৩১৫টি বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স স্তরের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষকের এমপিওভুক্তির দাবি দীর্ঘদিনের। ৩২ বছর ধরে বঞ্চিত এসব শিক্ষক বিভিন্ন সরকারের সময় দাবি জানিয়েও জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। গত ৫ আগস্ট বিগত আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের সামনে লাগাতার আন্দোলন শুরু করেন তারা। কিন্তু আন্দোলনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন লাঠিচার্জ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে শিক্ষকদের আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। আহত হন শিশুসন্তানসহ নারী শিক্ষক এবং আরও বেশ কিছু শিক্ষক।
বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স ফেডারেশনের সভাপতি নেকবর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত অক্টোবরে আন্দোলনের সময় মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে যেভাবে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে তাতে শিক্ষকরা আশ্বস্ত হতে পারেননি। তারপরও আমরা অপেক্ষা করছি। আন্দোলন করার পর বিভিন্ন দাবি আদায় হয়েছে শিক্ষকসহ অন্যদের। পুলিশ আমাদের নির্যাতন করেছে। অথচ আজ অবধি কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আগামী বাজেটের আগেই এমপিওভুক্তির নিশ্চয়তা না পেলে আমরা ঈদের পর কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে তা পালন করবো। প্রয়োজনে আমরণ অনশন করবো।’
সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা গত অক্টোবর মাসে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের সামনে আন্দোলন করেছি। তাছাড়া আমরাই সবার আগে আন্দোলন করেছি, সবার দাবি পূরণ হলেও আমাদের দাবি পূরণ হয়নি। সরকারকে সহযোগিতার জন্যই আমরা আন্দোলন না করে অপেক্ষা করছি। কিন্তু আমাদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়টিতে দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি দেখছি না। আমাদের দাবি আদায় না হলে আমরা আবারও আন্দোলন শুরু করবো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই সময় কয়েক দফা বৈঠক করেও বেসরকারি অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার বিষয়টি চূড়ান্ত করা যায়নি।
শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে বঞ্চিত অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করতে ২০২০ সালে জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্তির অর্থ বরাদ্দ দিতে সম্মত হয়নি। ফলে এসব শিক্ষক বিনা বেতনেই শিক্ষকতা করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি কলেজের জনবল কাঠামো অনুযায়ী ডিগ্রি স্তর পর্যন্ত পরিচালিত এমপিওভুক্ত কলেজগুলোয় ১৯৯৩ সালে অনার্স-মাস্টার্স স্তরের অনুমোদন দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ বিধিবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত স্কেলে শিক্ষকদের মূল বেতন দেওয়ার শর্তে অনার্স-মাস্টার্সের বিষয় অনুমোদন নেয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কলেজের টিউশন ফি থেকে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেওয়ার নির্দেশনা দেয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এই কারণে কলেজগুলোর জনবল কাঠামোতে স্থান পায়নি অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের পদ। ফলে সরকারি বিধিবিধানের আলোকে এমপিওভুক্ত হওয়ার সুযোগ বঞ্চিত হন তারা। আর বিগত ৩১ বছরের বেশি সময়েও এই সমস্যার সমাধান হয়নি।